ভোলায় খাদ্যবান্ধব চালে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া ও ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
184
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:০৯:৫৯ পিএম
ভোলায় খাদ্যবান্ধব চালে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া ও ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ
ভোলাদর্পণ প্রতিবেদক : ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিতে সুবিধাভোগীরা অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ওজনে কম দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে মানববন্ধন করেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার জাকির হোসেন রাজুর বিরুদ্ধে গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরেও স্মারক লিপি দিয়েছেন। এর মধ্যে সদর খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ মালেক তালুকদার অভিযুক্ত ডিলারকে চাল নিতে টাকা জমা দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে তদবির করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভুগী রাবেয়া, আমেনা, নুরুল ইসলাম জানান, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে ৫ মাসের জন্য ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ করে। এ জন্য প্রতি কার্ডে ৩০ কেজি করে চাল সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৪৫০ টাকা। নির্ধারিত ৪৫০ টাকার বাইরে ডিলাররা কার্ডধারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০/৩০ টাকা করে নিচ্ছেন। কার্ডধারীদের চাল ওজনে ৫-৭ কেজি পর্যন্ত কম দেয়া হচ্ছে এবং চাল আনতে গেলে তা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ২-৩দিন ঘুরাচ্ছে,তাতে গরিবদের কাজের বিঘœ ঘটছে। প্রতিবাদ বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে কার্ড বাতিল করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুবিধাভোগীরা। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ কেএম নুর হোসেন হাওলাদার বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ব্যাপক অনিয়মের বিষয়ে একাধিক ভুক্তভোগী আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। ডিলার জাকির হোসেন রাজু ২০/৩০ টাকা করে বেশি নিচ্ছেন, প্রায় বস্তায় চাল ওজনে কম দেয়া হয়েছে এবং অনেক কার্ডধারীকে চাল দেওয়া হয়নি। গরিবদের চাল নিয়ে এধরনের অনিয়মগুলো প্রশাসন দেখছেননা।
অভিযুক্ত ডিলার জাকির হোসেন রাজু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, ৮ জন কার্ডধারীদের কাছ থেকে দারোয়ানের জন্য ২০টাকা করে তোলা হয়েছিল পরে তা বন্ধ করে, এখন ৩০ কেজি করে খাদ্যবান্ধব চাল ৪৫০ টাকায় বিতরণ করি। চাল কম দেয়া হচ্ছেনা, আমরা গুদাম থেকে যে মাপে আনি আবার সেই মাপেই বিতরন করি। ৫জন কার্ডধারী চাল নেননি, তা এখনও আমার কাছে রয়েছে, সেই কার্ডধারী আসলে তাকে চাল দিয়ে দিব। এদিকে তদন্ত শেষ না হতে, সদর খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ মালেক তালুকদার ডিলারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাকে চাল নেয়ার জন্য টাকা জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে ভুক্তভুগি কার্ডধারীরা অভিযোগ করেন। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি,দারোয়ানের জন্য কোন টাকা তোলার নিয়ম নাই,ডিলার দারোয়ানসহ সব খরচ সে বহন করবে, কার্ডদারীকে ঘুরানো যাবেনা, চাল কম দিতে পারবেনা। বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সত্য প্রমানিত হলে ডিরার শিপ বাতিল করা হবে।
আরও পড়ুন:
জাতীয় সম্পর্কিত আরও
ভোলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৪৪জনকে আটক : ভ্রম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোলার ডিবি কর্তৃক লালমোহন পৌর সভার স্টোর কিপার জাহিদুল হাসান রাকিব ও নুরুল ইসলামকে ৩৪৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোলায় ৭ অসহায় ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা, ৬২ হাজার টাকা অনুদান প্রদান
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভোলায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত : সফল মৎস্যচাষিকে সম্মাননা প্রদান
১৭ আগস্ট ২০২৬
ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ১০ দপ্তরে আইনি নোটিশ
০৫ আগস্ট ২০২৬
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান সভাপতিত্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য অপপ্রচার রোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
০৪ আগস্ট ২০২৬
